আপডেট ৭ month আগে ঢাকা, ১৮ই অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ২রা কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১২ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরি

প্রচ্ছদ এক ঝলক

সি.এর ভ্রাতাদের সিন্ডিকেটে চলে ইয়াবা ব্যবসা!

| ২০:৫৬, মার্চ ১৭, ২০২১

দৈনিক লন্ডন টাইমস, প্রিন্ট ভার্সন সংবাদ ।টেকনাফের সাবরাং সিকদার পাড়া মৃত মাস্টার জহির আহমেদ ছেলে উপজেলা পরিষদের সি.এ ছৈয়দ হোসাইন মামুনের পরিবারের সিন্ডিকেটে চলে ইয়াবা কারবার। গতকাল ১৭ মার্চ র্যাব-১৫ এর হাতে ৭০ হাজার ইয়াবা এবং ৪লাখ টাকা সহ ধরা পড়াদের একজন কামাল হোছাইন(৪০) সেই ছৈয়দ হোছাইন মামুনের আপন কনিষ্ঠ ভ্রাতা। এর আগে গত ২৪ অক্টোবর ২০২০ সালে র্যাবের হাতে ২ কোটি টাকা মূল্যের ইয়াবা এবং ১৬ লাখ টাকাসহ ধরা পড়েছিল তার আরেক ভাই নবী হোছাইন এখনো পর্যন্ত জেলে রয়েছে ।সেইও ছৈয়দ হোছাইন মামুনের আরেক আপন ছোট ভাই।

উল্লেখ্য এলাকায় বিশেষ সুত্রে জানা যায়,ছৈয়দ হোছাইন মামুন নিজেও জাফর আলম চেয়ারম্যানের আমলে তার খালাতো ভাই আবু ছিদ্দিক ও আবুল মঞ্জুরের সঙ্গে সাবরাং স্থানীয় পেন্ডল পাড়া এলাকায় তার নিজ খালার বাসায় পুলিশের ইয়াবা উদ্ধার অভিযানে ধরা পড়ে,পরে অবশ্যই বিশেষ ব্যক্তিবর্গের সুপারিশে তিনি ছাড়া পায়।

বিভিন্ন তথ্য সুত্র বলছে,এরা সবাই মিলে দীর্ঘদিন ধরে পরিবারকেন্দ্রিক একটি ইয়াবা সিন্ডিকেট করে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে।কিন্তু কথা হচ্ছে প্রশাসনের এতো তৎপরতার পরেও কিভাবে এরা ধরা ছোঁয়ার বাইরে ছিলো?কিভাবে ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ওর সময়ে এরা পার পেয়ে গিয়েছিলো?কেনোই বা সৈয়দ হোসেন মামুনের নাম আসতেছে?

তাহলে জানুন সেই গল্প, উপজেলা পরিষদ একটা উপজেলার প্রশাসনিক কর্মকান্ডের নিউক্লিয়াস।ছৈয়দ হোসেন মামুন এই গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় উপজেলা চেয়ারম্যান এর ‘সিএ’ হিসেবে কর্মরত আছেন দীর্ঘদিন ধরে।যার দরূণ খুব সহজে প্রশাসনের সাথে জড়িত সকলের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে পারে।আর এটাই ট্রামকার্ড এই সিন্ডিকেটের।ছৈয়দ হোছাইন মামুন প্রশাসনের সাথে গড়ে তুলা সুসম্পর্কে কাজে লাগিয়ে নিজের ভাইদের রক্ষা করে গেছে প্রতিনিয়ত এবং চালিয়ে গেছে নিজেদের ইয়াবা ব্যবসা,সম্প্রসারিত করেছে নিজের অবৈধ অর্থের সাম্রাজ্য।

দীর্ঘদিন ধরে সাবরাং এর খুরের মুখকে ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করে নিজ ভগ্নিপতির মাধ্যমে মায়ানমার থেকে আনা ইয়াবার চালান উত্তোলন করে আসছে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে।গত কয়েকদিন আগেও এই সিন্ডিকেট অন্য সিন্ডিকেট এর সাথে মিলে লম্বরী ঘাট থেকে প্রায় ৩লাখ ইয়াবার চালান খালাস করেছে বলে এলাকায় জনশ্রুতি আছে এবং স্থানীয়রা মনে করছে র্যাব এর হাতে গতকাল মৌলভীপাড়া থেকে ধৃত ৭০ হাজার ইয়াবাও খালাসকৃত ৩ লাখ ইয়াবার একটি অংশ।

তাদের সিন্ডিকেট এর অনেকেই এখনো ধরা ছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে যাদের আইনের আওতায় আনা গেলে এই সিন্ডিকেটের ইয়াবার দৌরাত্ম্য অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা যাবে মনে করেন স্থানীয় জনগণ।

যেখানে সরকার মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করে মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার চেষ্টা করছে পুরোধমে সেখানে উপজেলা প্রশাসনের মত গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় থেকে নিজ পরিবারের ইয়াবা কারবারিদের আশ্রয়,প্রশ্রয় দিয়ে ইয়াবা ব্যবসা চালিয়ে নিতে থাকলে মাদকমুক্ত বাংলাদেশ এবং মাদকমুক্ত টেকনাফ গড়ে তুলা কখনো সম্ভব হবেনা।

কয়েকবছর আগেও এদের কৃষিকাজ এবং ভাইদের প্রবাস জীবনে অর্জিত আয় ছিলো ভরণপোষণের মাধ্যম।
তবে যারা প্রবাসে থাকতো তারা শূন্য হাতে দেশে ফিরে এসে ইয়াবা ব্যবসার হাল ধরে এবং অল্প সময়ের মধ্যে অঢেল সম্পত্তির মালিক হয়ে উঠে।নির্মাণ করে নিজ এলাকার সবচেয়ে সুন্দর এবং বিলাসবহুল বাড়ি যা কোটি টাকা মূল্যমানের।

তাই উপজেলা চেয়ারম্যান,উপজেলা নির্বাহী অফিসার, এবং টেকনাফ থানা পুলিশের নিকট এলাকার সচেতন জনগণের দাবি,যেনো যথাযথ তদন্ত করে এই সিন্ডিকট সহ সকল মাদক কারবারির বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় এবং উপজেলা প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে যে বা যারা ক্ষমতার অপব্যবহার করে রাষ্ট্রবিরোধী,সমাজবিরোধী কাজ করে যাচ্ছে তাদের লাগাম টেনে ধরা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Editor and publisher:  Syed Shah Salim Ahmed

Developed By : ICT SYLHET

Developer : Ashraful Islam

Developer Email : programmerashraful@gmail.com

Developer Phone : +8801737963893

Developer Skype : ashraful.islam625