আপডেট ৭ month আগে ঢাকা, ১৮ই অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ২রা কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১২ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরি

প্রচ্ছদ আন্তর্জাতিক

উইঘুতে চীনে ‘সাংস্কৃতিক গণহত্যার’ কথা জানালো ওয়াশিংটন পোষ্ট

| ১৪:৪৮, জুলাই ১০, ২০২০

নিউজ অব দ্য ওয়ার্ল্ড।শিনচিয়াং প্রদেশে উইঘুর সম্প্রদায়সহ মুসলমানদের ওপর চীন সরকারের যেসব নির্যাতনের চিত্র এখন পর্যন্ত জানা গেছে, তাতে ‘সাংস্কৃতিক গণহত্যার’ দিকেই দেশটি মূলত এগোচ্ছে। সেখানে মুসলমানদের ভাষা, ঐতিহ্য কিংবা জীবনযাপনের স্বাভাবিক ধরন পাল্টে দিতে বন্দিশালা খোলা হয়েছে। চরম নির্যাতনের উদাহরণ হিসেবে এটিই যথেষ্ট। এ ছাড়া নতুন তথ্য-প্রমাণ বলছে, উইঘুর সম্প্রদায়কে মুছে ফেলতে সেখানকার নারীদের বন্ধ্যা করাসহ নানা ব্যবস্থা নিয়েছে চীন সরকার।

সম্প্রতি ওয়াশিংটন পোস্টের সম্পাদকীয়তে উঠে এসেছে এসব চিত্র। তাতে বলা হয়েছে, উইঘুর সম্প্রদায়কে নিশ্চিহ্ন করার ষড়যন্ত্রের বিষয়টি সামনে এসেছে বার্তা সংস্থা এপির এক প্রতিবেদনের মধ্য দিয়ে। জেমসটাউন ফাউন্ডেশনের জন্য তৈরি করা এক প্রতিবেদনেও এসব বিষয় তুলে ধরেছেন আদ্রিয়ান সেনজ নামের এক গবেষক।

এ দুটি প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে ওয়াশিংটন পোস্ট বলছে, শিনচিয়াংয়ে উইঘুর জনসংখ্যা কমাতে চীন সরকার সুপরিকল্পিতভাবে কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যেমন—সেখানে বিভিন্ন ডিভাইস ব্যবহার করে নারীদের গর্ভধারণের পরীক্ষা চালানো হচ্ছে। এরপর জোর করে বন্ধ্যা করে দেওয়া হচ্ছে অনেক নারীকে। এমনকি উইঘুর সম্প্রদায়ের জনসংখ্যা যাতে না বাড়ে, সে জন্য অনেক নারীকে জোর করে গর্ভপাতও করানো হচ্ছে। এ ছাড়া বাইরে যাঁদের সন্তান বেশি, তাঁদের বন্দিশালায় নিয়ে নির্যাতন চালানো হচ্ছে। যেসব অভিযোগে সেখানকার মুসলমানদের আটক করা হচ্ছে, বেশি সন্তান নেওয়া সেসব কারণের মধ্যে অন্যতম। শিনচিয়াংয়ের কারাকাক্স এলাকার একটি বন্দিশালায় ৪৮৪ জনকে আটকে রাখা হয়েছে। এঁদের মধ্যে ১৪৯ জনকে আটক করা হয়েছে বেশি সন্তান নেওয়ার অভিযোগে। এপির প্রতিবেদনে বলা হয়, বেশি সন্তান রয়েছে—এমন অভিভাবকদের খুঁজে বের করা হয়। এরপর বন্দিশালায় নিয়ে মোটা অঙ্কের ক্ষতিপূরণ নেওয়া হয় তাঁদের কাছ থেকে।

অন্যদিকে গবেষক আদ্রিয়ান সেনজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উইঘুর সম্প্রদায়ের নারীদের বন্ধ্যা করার প্রকল্পটি শিনচিয়াং কর্তৃপক্ষ নেয় ২০১৯ সালে। ওই পরিকল্পনা অনুযায়ী, সন্তানধারণে সক্ষম ৮০ শতাংশ নারীকে বন্ধ্যা করে দেওয়া হবে। সেনজ তাঁর প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ২০১৮ সালে চীনে জন্ম নিয়ন্ত্রণের জন্য যতগুলো ‘আইইউডি’ ডিভাইস ব্যবহৃত হয়েছে, এর ৮০ শতাংশই ছিল শিনচিয়াং প্রদেশে। যদিও চীনের মোট জনসংখ্যার মাত্র ১.৮ শতাংশ শিনচিয়াংয়ে বসবাস করে। সেনজের তথ্য মতে, চীনের এ পরিকল্পনা এরই মধ্যে ফলপ্রসূ হতে শুরু করেছে। পরিসংখ্যান বলছে, উইঘুর অধ্যুষিত হোতান ও কাশগার এলাকায় ২০১৫ সালের তুলনায় ২০১৮ সালের জন্মহার ছিল ৬০ শতাংশ কম। আর পুরো শিনচিয়াং অঞ্চলে গত বছর জন্মহার কমেছে প্রায় ২৪ শতাংশ, যেখানে পুরো বিশ্বে কমেছে ৪.২ শতাংশ।

ওয়াশিংটন পোস্টের নিবন্ধে বলা হয়, চীন একসময় পুরো দেশে ‘এক সন্তান নীতি’ চালু করেছিল। সেই সিদ্ধান্ত পরে বাতিল হয়েছে ঠিকই; কিন্তু সেই নীতির যুক্তি দেখিয়ে এখনো উইঘুর সম্প্রদায়কে নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইছে। এসব কর্মকাণ্ডের জন্য চীন সরকারকে শিগগিরই জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে বলেও মনে করে ওয়াশিংটন পোস্ট।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Editor and publisher:  Syed Shah Salim Ahmed

Developed By : ICT SYLHET

Developer : Ashraful Islam

Developer Email : programmerashraful@gmail.com

Developer Phone : +8801737963893

Developer Skype : ashraful.islam625